rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৫, ০২:১৫:০৫অ-অ+
printer

তৃণমূলে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে :প্রধানমন্ত্রী

সিলেট ব্যুরো

তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। যুক্তরাজ্য থেকে ছয় দিনের সফর শেষে দেশে ফেরার পথে এদিন সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি। এ সময় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা। সম্প্রতি ব্রিটেনে নির্বাচনে জাতির পিতার নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকসহ বিজয়ী বাঙালি বংশোদ্ভূত তিন নারী এমপিকে সিলেটে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে লন্ডন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০১৬ ফ্লাইটটি গতকাল সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সিলেটে যাত্রাবিরতি শেষে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি ১১টা ৮ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতির ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের মাধ্যমে দেশবাসীকে রমজানের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত তিন কন্যা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি। সিলেটের রুশনারা আলী, পাবনা থেকে রূপা হক ও ঢাকার টিউলিপ সিদ্দিক। আমি সেখানে গিয়েছিলাম, প্রবাসী বাঙালিরা সেখানে এক সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছিল, টিউলিপকে আমি ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানাতে পেরেছি। তার ভাষণ শুনে খুব ভালো লেগেছিল। এক অন্যরকম অনুভূতি হয়েছিল। এ জন্য প্রবাসী সিলেটবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, টিউলিপের জন্য প্রত্যেক সিলেটবাসী আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সিলেটে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তাব করলে তিনি ব্রিটেনে জয়ী তিন কন্যাকেও সংবর্ধনা দেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পর আর কেউ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু যে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন তা নয়, স্বাধীনতা অর্জন, অর্জন-পরবর্তী একটি স্বাধীন রাষ্ট্র কীভাবে তৈরি হবে, কোথায় কী কী কাজ করতে হবে_ সবকিছু তিনি করে দিয়ে গেছেন। শুধু বাস্তবায়ন করাটাই বাকি ছিল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই জাতির পিতার নির্দেশিত কাজগুলো হাতে নিয়েছে এবং উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে।তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা আমরা পেয়েছি, স্থল সীমান্ত চুক্তিও আমরা বাস্তবায়ন করেছি। দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশের মধ্যে যান চলাচল চালু করতে স্বাক্ষরিত যোগাযোগ চুক্তির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন বাংলাদেশ থেকে ভুটানে ও নেপালে গাড়িতে যাওয়া যাবে। আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ আমাদের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর নীতি ছিল প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতার সম্পর্ক না রাখা। সেই নীতিতে আমরা অবিচল থেকেই এক এক করে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পেরেছি। ভারতের সঙ্গে অভিন্ন ৫৪টি নদী বাংলাদেশে প্রবাহিত। এসব নদীর পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠন করার পর থেকে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধের বিচার হচ্ছে, মানুষ হত্যা, গণহত্যার বিচার এরই মধ্যে আমরা করে যাচ্ছি। এটা না করলে বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হবে না। বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করা আমাদের লক্ষ্য।বিএনপি ধ্বংসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে_ এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ করে সৃষ্টির রাজনীতি। আর বিএনপি করে ধ্বংসের। তাই এ দেশে যত উন্নয়ন হয়েছে সবই হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। বিগত সময়ে সিলেটে নেমপ্লেটের উন্নয়ন ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে পুরনো বিল্ডিং ভেঙে নতুন নাম লাগানো ছাড়া সিলেটের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। শুধু নেমপ্লেটের উন্নয়ন ছিল। যদিও যুগ যুগ ধরে অর্থমন্ত্রী ছিলেন সিলেটের। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সিলেটে উন্নয়ন হয়েছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত এ অঞ্চলের উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নিজে নিয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের সন্ত্রাস-নাশকতায় উন্নয়ন কাজ খানিকটা ব্যাহত হয়েছিল। তাই আর যাতে কোনো অশুভ শক্তি উন্নয়নের পথে অন্তরায় না হয়, সেদিকে নেতাকর্মীদের মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সমুদ্র জয় ও স্থল সীমান্ত চুক্তিসহ তার সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে বলেন, এই অর্জনের খবর সাধারণ মানুষের কাছে পেঁৗছে দিতে হবে।

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার সময়ও সিলেটে যাত্রাবিরতি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হিথ্রো থেকে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট সিলেটে নামার উদ্যোগ আমিই প্রথম নিয়েছিলাম এবং তা বাস্তবায়ন করেছি। তাই যখন আমি এটা বাস্তবায়ন করলাম তখন তার ব্যত্যয় কীভাবে করি। এ জন্য সুযোগ পেয়েই এখানে নেমে গেলাম। তিনি বলেন, আগের সরকারগুলো ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ তা করেছে। তাই এ জেলার প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে শরিক হতে আগের চেয়ে অনেক বেশি উৎসাহ বোধ করছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে একটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে। এর দাবিদার আপনারা সবাই। প্রবাসী বাংলাদেশি থেকে শুরু করে প্রত্যেকে এতে অবদান রেখেছেন। সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা, রেলস্টেশনকে আধুনিক করা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, ঢাকা-সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা_ সবকিছু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হয়েছে। এমনকি সিলেটে কোনো ক্যান্টনমেন্ট ছিল না। আমরা এখানে আলাদা একটা ডিভিশনও করে দিয়েছি। এটা হওয়ার পরে সিলেটের নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে। এভাবে সারাদেশেই আমরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছি।বিমানবন্দরে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও জেলার সহসভাপতি আশফাক আহমদ। এ সময় আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এমপি, সাবেক এমপি জেবুন্নেছা হকসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, দেশের উন্নয়নে অবদান রাখায় আমি প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করলে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ব্রিটেনের নির্বাচনে বিজয়ী তিন কন্যাকেও সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তাব করেন এবং তিনি নিজে সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এ জন্য কোনো দিন-তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান।

মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved