rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৫অ-অ+
printer

একটি বিপন্ন শিশুও মানবতার লজ্জা

কৈলাস সত্যার্থী
বাংলাদেশে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। নোবেল পাওয়ার পর আসলে আরও আগে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নোবেল পাওয়ার পর গোটা বিশ্ব থেকেই এত আমন্ত্রণ এসেছে; তিন হাজারের বেশি, যে সময় করা কঠিন ছিল। আমি আসলে এখনও নিজের জন্মভূমি মধ্যপ্রদেশের বিদিশা শহরে যেতে পারিনি। খানিকটা বিলম্বে হলেও এখন ঢাকায় আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আসলে বাংলাদেশকে আমার দ্বিতীয় বাড়ি মনে হয়। ভারত ও বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং বিশেষ করে শিশুদের আলাদা করা কঠিন। আমি ঢাকায় আগেও বেশ কয়েকবার এসেছি। প্রথমবার এসেছিলাম ১৯৮৫ সালে। ১৯৮৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাতিসংঘ কনভেনশন অন দ্য রাইটস অব দ্য চাইল্ড-ইউএনসিআরসি। সেবার বাংলাদেশে এসে অনেক জায়গা ঘুরেছি। ১৯৯৮ সালে সর্বশেষ এসেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের অনুষ্ঠান ছিল। সেবার বাংলাদেশে আমি ৯ দিন ছিলাম। তখন শিশুদের সঙ্গে হেঁটে ঢাকায় মাইলের পর মাইল ঘুরেছি। ওই শিশুদের পাঁচ-ছয়জনের নাম আমার এখনও মনে আছে। তাদের কারও কারও সঙ্গে পরে যোগাযোগও হয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষ গর্ব করতে পারে যে, তাদের দেশে শিশু অধিকার প্রশ্নে বেশ আগেই নাগরিক উদ্যোগ গড়ে উঠেছিল। কেবল বাংলাদেশ নয়; দক্ষিণ এশিয়াও গর্ব করতে পারে যে, বিশ্বের অনেক অংশের আগেই এই অঞ্চলে আমরা শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করেছি। আমরা যখন শুরু করি, তখন বিশ্বব্যাপী ছিল ট্রেড ইউনিয়নের যুগ। সবাই শ্রমিকের অধিকার নিয়ে বেশি কাজ করত। আমার মনে আছে, ঢাকায় যখন ইউএনসিআরসি আয়োজন করা হয়েছিল, তখন শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন পাওয়া কঠিন ছিল। এই ইস্যুতে আগ্রহ, জ্ঞান, ধারণা ও কার্যক্রমের অভাব ছিল প্রকট।
গত আড়াই দশকে শিশু অধিকার প্রশ্নে অনেক অগ্রগতি হয়েছে_ স্বীকার করতে হবে। কিন্তু এখনও বিশ্বে প্রায় ১৭ কোটি শিশু শ্রমিক রয়েছে। তাদের মধ্যে আট কোটি শিশু শ্রমিকের পরিস্থিতি খুবই করুণ। এখনও বিশ্বে পাঁচ কোটি শিশুর কাছে শিক্ষার আলো পেঁৗছেনি। আমরা চাই না যে, আধুনিক বিশ্বব্যবস্থায় একজন শিশুও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকুক। ফলে এই বিপুলসংখ্যক শিশুর শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকা, বিপুল সংখ্যক শিশুর এখনও শ্রমিক হিসেবে থাকা আমরা যারা শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করি, তাদের জন্য এক ধরনের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা এক অর্থে সবার। আমাদের রাজনীতিক, আমাদের রাষ্ট্রনেতা, আমাদের নাগরিক সমাজ_ সবার। শিশুশ্রম ও শিশুশিক্ষার এই চিত্র তাগিদ দেয় যে, আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে, আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে_ শিশু অধিকার রক্ষা, শিশুদের জন্য আদর্শ বর্তমান ও সোনালি ভবিষ্যৎ নির্মাণে আমরা কেন ব্যর্থ হলাম? এ প্রশ্ন নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আবার মিলিত হয়েছিল। তারা আবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে, যাতে সব শিশুর জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়। এর আগে আমরা বলেছিলাম_ ২০০০ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু পারিনি। তারপর আমরা বলেছিলাম, ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৫ সাল এসে গেছে, আমরা পারিনি। এখন নতুন লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে ২০৩০ সালের জন্য। এবার আমাদের পারতেই হবে। এবার আর ব্যর্থ হওয়া চলবে না।
শিশু অধিকার রক্ষা, শিশুশ্রম বিলোপের বিষয়টি কিন্তু সব শিশুর জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত। কেবল শিক্ষা নিশ্চিত করা নয়; মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বিদ্যালয়ে গিয়েও সেই শিশুর জীবনমান উন্নত হয় না। এখনও দেখা যাচ্ছে, ২৫ কোটি শিশু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে; কিন্তু তারা লিখতে পারে না। এসব শিশু তার শিক্ষাকে তাহলে কীভাবে জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাবে?
বিদ্যালয়ে গিয়েও ভালো শিক্ষা না পাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান কারণগুলো হচ্ছে_ ভালো শিক্ষক ও উপযুক্ত শিক্ষা উপকরণের অভাব। আবার শিশুর পরিবারে থাকা-খাওয়ার কী পরিস্থিতি, সেটাও তার শিক্ষার ওপর প্রভাব ফেলছে। এজন্য আমরা বলি, বিদ্যালয়গামী সব শিশুর শিক্ষার ভার, ভালো শিক্ষক জোগাড় করার ভার, শিক্ষা উপকরণের ভার, এমনকি শিশুর খাদ্যের ভারও নিতে হবে সমাজ, রাষ্ট্র তথা বিশ্ব সম্প্রদায়কে।
এখন বিশ্বব্যাপী শিক্ষা খাতে যা ব্যয় হয়, তার থেকে বছরে অতিরিক্ত ২২শ' কোটি ডলার ব্যয় করা গেলেই সব শিশুর মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। আর এই অর্থ হচ্ছে বিশ্বে যে সামরিক ব্যয় হয়, তার সাড়ে চার দিনের সমান। মাত্র সাড়ে চার দিনের সামরিক ব্যয় দিয়ে আমরা গোটা বছরের শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারি।
আমরা দেখি পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়ায় বিদ্যালয়ে হামলা হচ্ছে। সহিংসতার শিকার হচ্ছে শিশুরা। কিন্তু মনে রাখি না, শিশুকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখাও আসলে সহিংসতা। প্রত্যেকটি শিশু মানসম্মত শিক্ষার অধিকার নিয়ে জন্ম নেয়। তা নিশ্চিত করতে না পারার জন্য দারিদ্র্য যে অজুহাত হতে পারে না, তা সামরিক ব্যয় দেখলেই তো বোঝা যায়! আর শিশুর সব বিপন্নতার জন্য দায়ী তার শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত না হওয়া। সভ্যতার টিকে থাকার স্বার্থে এটা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের বিপন্ন রেখে রাষ্ট্রব্যবস্থা, সামরিক সামর্থ্য, নাগরিক অধিকার যত শক্তিশালীই করি, তা টেকসই হবে না। যদি একজন শিশুও বিপন্ন থাকে, তা হবে মানবতার জন্য লজ্জাজনক।
ষ ২০১৪ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ভারতের শিশু অধিকারকর্মী; ২৯ মে ২০১৫ ঢাকায় অনুষ্ঠিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্যের সংক্ষেপিত
অনুলিখন শেখ রোকন
মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved