rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৫, ২০:৩৪:৩৬ | আপডেট : ১৯ জুন ২০১৫, ১০:৩১:৫০অ-অ+
printer

মেলবোর্নের মধুর প্রতিশোধ

বাংলাদেশের কাছে ৭৯ রানের হার ভারতের
সঞ্জয় সাহা পিয়াল

যত ক্রোধান্ধ উৎসমুখ, তার সবক'টি থেকে যেন বেরিয়ে আসছিল প্রখর প্রতিশোধস্পৃহা! তাসকিন, মুস্তাফিজদের ভেতর থেকে যেন নিক্ষেপ হচ্ছিল এক একটি অগি্নগোলা। সহ্য হয়নি তা ধোনির, যাকে ভদ্রলোক বলে বড়াই করে ভারতীয়রা, তিনিই কি-না গায়ের জোর দেখিয়ে ইচ্ছা করে ধাক্কা দেন মুস্তাফিজকে। ধোনির স্পর্ধায় ধিক্কার জানিয়েছিল মিরপুরের গ্যালারি, আর মাঠে তার মুখভাঙা জবাব দিয়েছিলেন সাকিব। পরের ওভারেই পত্রপাঠ বিদায় করে দিয়েছিল ওই লোকটাকে। ১২৮ রানে ৫ উইকেট, গোটা স্টেডিয়ামে তখন উত্তেজনার লাভাস্রোত। প্রেসবক্সে বসে থাকা হতবিহ্বল দিলি্লর সাংবাদিকরা_ এটা কোথায় এলো ভারত? অস্ফুটেই বেরিয়ে এসেছিল কথাগুলো। যার উত্তর মাশরাফিরাই দিয়ে দিয়েছেন বাইশ গজে_ এটা মেলবোর্ন নয়, মিরপুর শেরেবাংলা, এখানে শেরই গর্জে ওঠে। প্রথমে ৩০৭ রান তুলে ধোনিদের দাম্ভিকতার চূড়া থেকে টেনে নামিয়েছিলেন তামিম-সৌম্য-সাকিবরা। এরপর তাদের হতাশার গহ্বরে ঠেলে দিয়েছিল মুস্তাফিজের তাজা রক্ত। অভিষেকেই পাঁচ উইকেট শিকার করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, শুধু গায়ের জোরে নয়, বুদ্ধিটা সঙ্গে থাকতে হয়। আর এদিন তা দিয়ে ক্ষিপ্ত, ক্ষুধার্ত টাইগাররা অর্জন করেছে ৭৯ রানের বিশাল এক জয়। প্রতিশোধ নিয়েছেন মেলবোর্নের।

একটি গেল, বাকি রইল দুই_ পাকিস্তান সিরিজের আগে যেভাবে গুনতে শুরু করেছিলেন সমর্থকরা, এবারও তা করতে পারেন। কেননা আবেগের স্রোত কিংবা হুজুগে নয়, রীতিমতো কৌশল করে নিজেদের সুন্দরভাবে গুছিয়েই এ সিরিজ খেলতে নেমেছেন মাশরাফিরা। গতকাল ড্রেসিংরুমের সামনে যখন পেসার মুস্তাফিজ আর লিটন দাসের মাথায় অভিষেক ক্যাপ পরিয়ে দেন মাশরাফি, দূর থেকে তা দেখে শঙ্কা জেগেছিল, তাহলে কি রুবেলকে বসিয়ে মুস্তাফিজকে নামানো হচ্ছে? টস করতে যাওয়ার সময়ই মাশরাফি তা পরিষ্কার করেন_ তিন পেসার নয়, চার পেসার নিয়ে নামছে বাংলাদেশ। কোচ হাথুরুসিংহের পরিষ্কার যুক্তি, আইপিএল খেলা ভারতীয়দের পরাস্ত করতে হলে আগ্রাসী মনোভাব দেখাতে হবে। আর তা পেসারদের মধ্যেই মজুদ থাকে বেশি। তা ছাড়া নতুন মুস্তাফিজের খুব বেশি ভিডিও নেই বাজারে, তাই ভারতীয়রাও তাকে খেলতে একটু বেকায়দায় পড়তে পারে। ড্রেসিংরুমের এ পরিকল্পনা কাজেও এসেছিল। শুরু থেকেই ঘণ্টায় একশ' আটত্রিশ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতে থাকেন মুস্তাফিজ। ধাওয়ানের বিপক্ষে জোরালো কিছু এলবিডবি্লউর আবেদনও ছিল তার। অন্যদিকে তাসকিন ছিলেন তাসকিনের মতোই, শর্ট বল দিয়ে যাচ্ছিলেন। শুরুতে রোহিত শর্মা আর ধাওয়ান চড়াও হয়েছিলেন বটে, তবে তার জন্য মুশফিকের কিছুটা দায় রয়েছে। রুবেলের বলে ১৩ রানে থাকতে ধাওয়ান ক্যাচ তুলে দেন উইকেটের পেছনে। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেও এক হাতে ক্যাচটি নিতে গিয়ে তা মাটিতে ফেলে দেন। আরও সহজ একটি ক্যাচ দিয়েছিলেন ধাওয়ান। মাশরাফির সেই আবেদনে সাড়াও দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার রড টাকার। পরে অবশ্য তিনিই লজ্জা পেয়ে যান। তিনি বুঝতে পারেননি, এমন সহজ ক্যাচও ফেলতে পারেন কোনো উইকেটকিপার। পরে এ বিভ্রান্তি নিয়ে আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মাশরাফি। আর তা নিয়েই ক্রিকইনফোর ধারাভাষ্যে কত জলঘোলা। তারা বলছে, মাশরাফি নাকি অসৌজন্যতা দেখিয়েছেন, সৌম্যও বল ছুড়ে রানআউটের আবেদন করে অক্রিকেটীয় আচরণ করেছেন! কী অদ্ভুত! এরা ধোনির ধাক্কা দেওয়াটাকেও সমর্থন করে বলছে, মুস্তাফিজের নাকি ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকা স্বভাব!

অবশ্য সব তাচ্ছিল্যের জবাব এরপর দিয়েছিলেন তাসকিন। শর্ট বল আপার কাট করতে গিয়ে সেই মুশফিকের হাতেই ক্যাচ দেন ৩০ রানে থাকা ধাওয়ান। এবার আর মিস হয়নি মুশফিকের। ৯৫ রানে ভারতের প্রথম উইকেটের পতন, যেন গিঁট খুলেছিল সেখানেই। এরপর হেভিওয়েট ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি ১ রান করে ফিরে গিয়েছিলেন তাসকিনের শর্ট বল খেলতে গিয়েই। মাঠেই শুরু হয়ে যায় মাসকিন (মাশরাফি-তাসকিন) বুকে বুক লাগিয়ে সেই চেনা ড্যান্স। পরের বড় ধাক্কাটি দিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। ওভার দ্য উইকেটে এগিয়ে আসা মুস্তাফিজকে ফ্লিক করতে গিয়ে মিডঅফে লোপ্পা ক্যাচ দিয়ে বসেন ৬৩ রান করা রোহিত শর্মা। এরপর মুস্তাফিজের স্লোয়ার বলে রাহানের তোলা ক্যাচ যেভাবে গাছে পাড়া আমের মতো লুফে নেন নাসির, তা দেখে অবাক হয়ে যায় গোটা মাঠ। ধোনি নেমেছিলেন এরপর এবং মাত্র সাত বল ক্রিজে থেকেই তিনি যে কাণ্ড করলেন, তা আর যা-ই হোক ক্রিকেটে যায় না। অপেক্ষায় থাকবে বাংলাদেশ, ওই ঘটনায় ম্যাচ রেফারি কী বিচার করেন, তা দেখার। অবশ্য প্রকৃতি বিচার করেছিল, সাকিবের বলে ক্যাচ দিয়ে মুখ নিচু করে ফিরতে হয়েছিল ভারত অধিনায়ককে। ২৫.৩ ওভারে ১২৮ রানে ৫ উইকেট, মিরপুরের প্রেসবক্স বসেই ভারতীয় সাংবাদিকরা ম্যাচ হারার স্ক্রিপ্ট লিখতে শুরু করেন। মাঝে কিছুটা সময় ৬০ রানের জুটি হয়েছিল রায়না আর জাদেজার। তাতে অবশ্য ঘাবড়ানোর কিছু ছিল না। ধোনির ধাক্কায় কিছুটা আঘাত পাওয়া মুস্তাফিজ ফিরে এসেছিলেন ভেতরের অন্তর্জ্বালা নিয়ে। আর তাতেই তার স্মরণীয় এক কাটারে বোল্ড হয়ে যান ৪০ রানে থাকা রায়না। গ্যালারি গর্জে উঠতে না উঠতেই আবারও ধাক্কা, পরের বলেই আউট অশ্বিন। হ্যাটট্রিক বলে ইঁদুর-বিড়াল খেলার মতো ভুবেনশ্বর কুমারকে তিন স্লিপ, গালি, পয়েন্ট দিয়ে ঘিরে রেখেছিলেন মাশরাফি। হ্যাটট্রিক হয়নি তবে জোড়া ধাক্কায় ভারতের আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছিল। ভারতীয়রা টের পেয়েছিল, নবাগত মুস্তাফিজের মধ্যে থাকা বারুদ কতটা ভয়ঙ্কর।

অবশ্য এর আগে ব্যাটিংয়েও তামিম-সৌম্যর ঝাঁজ টের পেয়েছিলেন ধোনিরা। শুরু থেকেই 'মানব না আজ কোনো বাধা' ভঙ্গিতে ব্যাট চালাচ্ছিলেন তামিম। প্রথম পাঁচ ওভারে তেমন কাজে আসেনি, উঠেছিল মাত্র ২৭ রান। অবশ্য তার পরই যেন বারুদে স্পার্ক করে। ষষ্ঠ ওভারে উমেশ যাদবকে চার ছক্কায় ১৮ রান দিয়ে তিনশ' রানের পিলার স্থাপন করেন তামিম। অন্যদিক দিয়ে সৌম্যদর্শন, ক্ল্যাসিক সব শট খেলতে থাকেন সৌম্য সরকার। তামিমের তেজস্বী ব্যাট আর সৌম্যর নিখুঁত শটের মিশ্রণে ওই চার ওভারেই আসে ৪৯ রান।

এলোমেলো হয়ে যায় ভারতের বোলিং। ১০২ রানের ওপেনিং জুটি হয়েছিল দু'জনের। কিন্তু সৌম্য পঞ্চাশ স্পর্শ করার পরই ভুল করে বসেন। তামিম মোহিত শর্মার ইয়ার্কার ঠেকিয়ে দিলে সৌম্য সিঙ্গেলস নিতে যান, যা মোটেই রান নেওয়ার মতো ছিল না। বলটি গ্রিপ করেই সরাসরি থ্রোতে ৫৪ রানে থাকা সৌম্যকে রান আউট করেন রায়না।

বাংলাদেশ ইনিংসের উজ্জ্বল আকাশেই এরপর বৃষ্টি নেমে আসে। ভেজা মাঠে এক ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল। আর তাতেই যেন ছন্দপতন হয়, বৃষ্টি নামার পর খেলা শুরু হলে বল কিছুটা স্লো হয়ে ব্যাটে আসতে থাকে। ৬০ রানে থাকা তামিম ওই সময় পরিস্থিতির প্রতিকূলে গিয়ে অশ্বিনকে এগিয়ে এসে চালাতে গিয়ে লংঅনে ক্যাচ দিয়ে বসেন। দুই ওভার পর সেই অশ্বিনের একটি বলেই এলবিডবি্লউ হয়ে যান নবাগত লিটন দাস। অশ্বিনের ওই স্পেলেই মুশফিকও তামিমের মতো একইভাবে আউট হন, দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ফিরে যান মাত্র ১৪ রান করে। ২৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ায় গ্যালারিতে নেমে আসে নীরবতা।

কিন্তু বিশ্বকাপে যে মন্ত্রে বদলে গেছে দল, সেই ' আক্রমণ' মানসিকতা নিয়েই চালাতে থাকেন সাবি্বর রহমান রুম্মান। শুরুটা করেছিলেন তিনি রায়নাকে রিভার্স সুইপ মেরে। এরপর একে একে জাদেজাকে স্লগ সুইপ, যাদবকে পুল আর অশ্বিনকে সোজা ব্যাটে বাউন্ডারির বাইরে আছড়ে মারতে থাকেন। সাকিবও এ সময় তার প্রিয় কাটশটগুলো ঝোলা থেকে বের করতে থাকে। পাওয়ার প্লে পর্যন্ত সাকিব আর রুম্মান জুটি ভালোই এগোচ্ছিল। এই জুটি থেকে মোট ৮৩ রান পেয়েছিল দল। যাদবের বাইরে দিয়ে যাওয়া শর্ট বলে টোকা মারতে গিয়ে সাকিব ক্যাচ তুলে দেন ৫২ রানে। ২৬৭ রান থেকে তিনশ' পার করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নেন নাসির। ৩৪ রান করে নাসির আউট হওয়ার পর তিনশ' পার করতে হাত লাগান মাশরাফি। ইনিংসের শেষ ওভারে মুহিত শর্মাকে পরপর দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ভারতের বিপক্ষে দলের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস উপহার দেন অধিনায়ক।শুরু হয় গ্যালারিতে প্রথম 'মওকা... মওকা...' স্লোগান। বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় চ্যানেল এই স্লোগান দিয়েই তাতিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশিদের। আর গতকাল সেটাই শুধু ফিরিয়ে দেওয়া হলো।

এ সংক্রান্ত আরো খবর
মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved