rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০২:১০:৩৯ | আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৪:৪০:৫১অ-অ+
printer
সাক্ষাৎকারে ফখরুল

বিএনপি নয় পুরো দেশই মহাসংকটে

লোটন একরাম

বিএনপি নয়, পুরো দেশ ও জাতিই আজ মহাসংকটে পড়ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাই এখন বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রীর সংলাপে বসার আহ্বান প্রত্যাখ্যান এবং দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি ভুল করেনি বলে দাবি করে তিনি বললেন, সংলাপের আহ্বান আন্তরিক ছিল না, ছিল লোক দেখানো। আর দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় না তা ৫ জানুয়ারি প্রমাণ হয়েছে।  বিএনপি নয় পুরো দেশই মহাসংকটে

শতকরা ৫ ভাগ ভোটকে নির্বাচন কমিশন সরাসরি আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে নির্লজ্জভাবে কীভাবে ৪০ ভাগ বানিয়েছে তা দেশবাসী দেখেছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেও নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের পক্ষে একই ভূমিকা রাখত। এমনকি জাতিসংঘের আহূত সংলাপে বসার পরও আওয়ামী লীগ নির্বাচনের তারিখ পেছাতে রাজি হয়নি। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, যারা বলে আমাদের আন্দোলনের ক্ষমতা নেই, তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছেড়ে রাজপথে নামুক। তারপর দেখা যাবে ক্ষমতা আছে কি নেই।

বিএনপির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমকালকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির অঙ্গীকার। সাক্ষাৎকারে খোলামেলা সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মির্জা ফখরুল। অবশ্য কয়েকটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে কৌশলী উত্তর দিয়েছেন। যেমন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনায় বিএনপি আন্দোলনে নামছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি দলের নীতিনির্ধারকদের অংশ। বিএনপি দলীয় ফোরামে সর্বসম্মতভাবে সব পরিকল্পনা গ্রহণ করে। জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব সম্পর্কিত প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেছেন, আন্দোলনের সহযাত্রী হিসেবে তাদের সঙ্গে যেটুকু সম্পর্ক থাকার কথা তা-ই রয়েছে।

সমকাল :বিএনপির ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আপনারা এবার কী অঙ্গীকার গ্রহণ করবেন?মির্জা ফখরুল :দেশে আবারও ভিন্ন কায়দায় বাকশালের মতো একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চলছে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সব দলের অংশগ্রহণের একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে এবার আমাদের অঙ্গীকার।

সমকাল :বিএনপির সাফল্য ও ব্যর্থতাগুলো কী কী?মির্জা ফখরুল :ব্যর্থতার চেয়ে বিএনপির সাফল্যের পাল্লাই বেশি ভারী। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ দেশে সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ এবং মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকি সবগুলো বন্ধ করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন। সংসদীয় গণতন্ত্র, সংবাদমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, পোশাক শিল্পকে একটি মাত্রায় নিয়ে যাওয়া, বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কৃষি ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নসহ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বিএনপির নীতিগুলোই যথেষ্ট অবদান রেখেছে। এ ছাড়া বিএনপি আরও অনেক সাফল্য রেখেছে, যা এই স্বল্প পরিসরে বলে শেষ করা যাবে না। ব্যর্থতার মধ্যে রয়েছে- ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করতে না পারা, ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে না পারা, ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনের অবৈধ সরকারের নির্বাচনে জয়লাভ করতে না পারা অন্যতম। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আওয়ামী লীগ যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, তাতে বিরোধী দলের পক্ষে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ, আওয়ামী লীগ দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কখনও সম্ভব নয়, যা গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে।

সমকাল :অনেকে মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর সংলাপে সাড়া এবং দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ভুল করেছে।মির্জা ফখরুল :সংলাপের বিষয়টি ছিল পুরোপুরি লোক দেখানো। কোনো আন্তরিকতা ছিল না। জাতিসংঘের উদ্যোগে আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। তারা কোনোভাবেই ছাড় দেয়নি। এমনকি নির্বাচনের সিডিউল পেছাতেও চায়নি। বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে মোটেই ভুল করেনি। একদলীয় নির্বাচনে ১৫৪ আসনে তাদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। শতকরা ৫ ভাগ ভোট পড়লেও নির্বাচন কমিশন তা বাড়িয়ে ৪০ ভাগ ভোট দেখিয়েছে। কমিশন সরাসরি আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রমাণ করেছে, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ভুল করেনি।

সমকাল :কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সরকারকে নির্বাচনে আসতে বাধ্য করার হুমকি-ধমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত সফল না হওয়ার কারণ কী? বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা, রাজধানীর রাজপথে নেতাকর্মীরা না নামাই কি আন্দোলন ব্যর্থ বা দাবি আদায় সম্ভব হয়নি?মির্জা ফখরুল :আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের সব যন্ত্রকে ব্যবহার করে সারাদেশে অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যা ও গুম করেছে। একই সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করেছে। সর্বশেষ রাজধানীতে আসার সব পথ বন্ধ করে দিয়ে ঢাকার রাস্তায় দেখামাত্র গুলি করে একটি সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এর পরও ৫ জানুয়ারি একদলীয় নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সমকাল :মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আপনারা শিগগির আবার আন্দোলনে নামার এবং সরকারকে নির্বাচন দিতে বাধ্য করবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারি দলের নেতারা বলছেন, বিএনপির আন্দোলন করার কোনো ক্ষমতা নেই। আপনার বক্তব্য কী?মির্জা ফখরুল :বিএনপির আন্দোলন করার ক্ষমতা আছে কি-না নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রমাণ হয়েছে। গোটা দেশ রাজধানী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আর আমাদের আন্দোলন করার ক্ষমতা নেই যারা বলছেন, তাদের বলব, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছেড়ে আসুন, তাহলে প্রমাণ হবে- ক্ষমতা আছে কি নেই।

সমকাল :বলা হয়ে থাকে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে বিএনপির 'শান্তিপ্রিয়' নেতাকর্মীরা রাজপথে নামেননি। এবারও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একই ভূমিকায় থাকলে নেতাকর্মীরা মাঠে নামবেন?মির্জা ফখরুল :নেতাকর্মীরা সব সময়ই মাঠে আছেন এবং মাঠে থাকবেন।

সমকাল :প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি দলের নেতারা বলছেন, ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি 'ট্রেন মিস' করেছে। তাদের এ ভুলের খেসারত দিতে হবে।মির্জা ফখরুল :একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন কোনো ট্রেনে ওঠার বিষয় নয়। একটি জাতির গণতন্ত্রের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের বিষয়। এটাই একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকারের চিন্তা থাকা উচিত, যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়া একটি গণতান্ত্রিক দলের কর্তৃত্ব দাবি করা উচিত নয়। এখন খেসারত বিএনপি দিচ্ছে না, দিচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ।

সমকাল :বিদেশিরাও আবার নতুন করে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপের তাগিদ দিচ্ছে। আবার সংলাপে বসানোর ব্যাপারে শিগগির বিদেশি কূটনীতিকদের 'দুতিয়ালি' শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি?মির্জা ফখরুল :বিদেশি দুতিয়ালি সম্পর্কে বিএনপি কিছু জানে না। বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী দল। তারা আশা করে, গণতান্ত্রিক মানুষের সঙ্গে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোও বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়।

সমকাল :পত্রপত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনায় বিএনপি আন্দোলনে নামতে যাচ্ছে? এটা কি সঠিক?মির্জা ফখরুল :তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি দলের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ। তবে বিএনপি সম্মতিগত পরিকল্পনায় আন্দোলনে নামছে।

সমকাল :দল ও জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমায় সাজা হয়ে গেলে আন্দোলনে এর প্রভাব পড়বে কি?মির্জা ফখরুল :সব গণতান্ত্রিক ও ভোটের অধিকারের আন্দোলনই জনগণের আন্দোলন। এর আগে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দল ও জোটের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হয়েছেন। তাতে করে জনগণের আন্দোলন কখনও স্তিমিত হয়ে পড়েনি। বরং আন্দোলনের গতি আরও বেগবান হয়েছে।

সমকাল :দুই মাসের মধ্যে নবগঠিত ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি কি সম্মেলনের মাধ্যমে সব ওয়ার্ড ও থানায় নতুন কমিটি গঠন করে আন্দোলনের উপযোগী পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে সক্ষম হবে?মির্জা ফখরুল :আশা করি।

সমকাল :আপনি অভিযোগ করছেন, সরকার বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট ভাঙনের ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে আপনাদের হাতে কি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ আছে? থাকলে তা বলবেন কি?মির্জা ফখরুল :সরকার পঞ্চদশ সংশোধন করার পর থেকেই বিএনপি ও জোট ভাঙার অনেক চেষ্টা করেছে। এটা প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে। এর বহু প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।

সমকাল :কেন্দ্রীয়সহ প্রায় সব জেলা ও মহানগর শাখাই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে দল চলছে। বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার পাঁচ বছর পরও ষষ্ঠ কাউন্সিল করা সম্ভব হচ্ছে না কেন?মির্জা ফখরুল :আমরা কাউন্সিল করার সব উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সরকার আমাদের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ১৫৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে। অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তথ্য-উপাত্ত নষ্ট করে ফেলেছে। স্বাভাবিকভাবেই কাউন্সিল পিছিয়ে গেছে। তবে যথাসময়ে কাউন্সিল হবে।

সমকাল :অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলই কি কাউন্সিলের প্রধান অন্তরায় নাকি অন্য সমস্যা?মির্জা ফখরুল :কাউন্সিল পেছানোর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলের কোনো সম্পর্ক নেই।

সমকাল :জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিএনপিকে তার দলে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। এ সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?মির্জা ফখরুল :এরশাদ সাহেবের দল কি আছে? এরশাদ সাহেব কোন দলের চেয়ারম্যান? যেহেতু তিনি প্রায় একা হয়ে পড়েছেন, তিনি কি কোন দলে যোগ দেবেন_ আওয়ামী লীগে নাকি অন্য কোনো দলে?

সমকাল : দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়ে দল চালানোয় কোনো সমস্যা হচ্ছে কি? কবে নাগাদ আপনি ভারমুক্ত হবেন?মির্জা ফখরুল :আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। দলের কাউন্সিলে পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচিত হবেন।

সমকাল :দলের কয়েকজন নেতা ও দল সমর্থক বুদ্ধিজীবী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রতিনিয়ত 'ভুল' বোঝাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে আপনি কী মনে করেন?মির্জা ফখরুল :এটা সঠিক নয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩০ বছর ধরে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সময়োচিত সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে একাধিকবার সরকার গঠন করেছেন। দলের পাশাপাশি দেশ পরিচালনায়ও অত্যন্ত দক্ষতা ও প্রাজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তাকে ভুল বোঝানোর সুযোগ নেই।

সমকাল :অনেকে বলেন, বিএনপি জামায়াতনির্ভর আন্দোলন করতে চায়। এখন আবার তাদের সঙ্গে দূরত্বের কথাও শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?মির্জা ফখরুল :জামায়াতে ইসলামী চলমান আন্দোলনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল। এই আন্দোলনে তারা সহযাত্রী। তাদের সঙ্গে বিএনপির সে রকম সম্পর্কই রয়েছে।

সমকাল :খালেদা জিয়া 'পুরনো বৃত্ত' থেকে বের হতে পারছেন না বলে অনেকেই মনে করছেন? এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?মির্জা ফখরুল :বিএনপি একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে গণতন্ত্রের ধ্বংসস্তূপ থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবরণের পর খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করে তিনি দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এনেছিলেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। নারী শিক্ষা, জনগণের স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক সংস্কার সূচিত এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। খালেদা জিয়া একদিকে বিএনপির নেতৃত্ব দেন, তেমনি দেশকে নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বে সৃজনশীলতা আছে বলেই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে উঠে দাঁড়িয়েছেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আবার সাফল্য অর্জন করবে- ইনশাআল্লাহ।

সমকাল :অনেকে মনে করেন, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি এখন মহাসংকটে পড়েছে। আপনাদের মূল্যায়ন কী?মির্জা ফখরুল :শুধু বিএনপি নয়, পুরো দেশ ও জাতিই আজ মহাসংকটে। কারণ বাকশালের প্রেতাত্মারা আবার ভিন্নরূপে গণতন্ত্রকে গ্রাস করেছে। মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিপন্ন আজ। মানুষ এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে অধীর অপেক্ষায় আছে। আশা করি, অচিরেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।

সমকাল :বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী বলে আপনি মনে করেন?মির্জা ফখরুল :দেশে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা এখন বিএনপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

সমকাল :আপনাকে ধন্যবাদ।মির্জা ফখরুল :সমকালকেও ধন্যবাদ।

মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved