rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৪, ১৮:০৯:৫৮ | আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৪, ১০:২৮:৫৩অ-অ+
printer

খালেদা জিয়া বিকৃত মানসিকতার: প্রধানমন্ত্রী

সমকাল প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে 'বিকৃত মানসিকতার' বলে আখ্যা দিয়েছেন।খালেদা জিয়া বিকৃত মানসিকতার: প্রধানমন্ত্রী
বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- সমকাল
 
তিনি বলেন, 'বিকৃত চরিত্র ও মানসিকতার না হলে ১৫ আগস্ট জন্মদিন উদযাপনের নামে তিনি কেক কেটে আনন্দ-উৎসব করতে পারতেন না। এর মাধ্যমে বিএনপি নেত্রী প্রমাণ করেছেন, তিনি খুনি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে আছেন। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করেন না।'
 
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, 'বাংলাদেশে পরাজিত শক্তির উত্থান আর কোনোদিনই ঘটবে না। এদেশের মানুষ তা ঘটতেও দেবে না। খুনিদের ঠাঁই বাংলার মাটিতে হবে না। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, সব খুনের বিচারও এদেশের মাটিতেই হবে।'
 
প্রধানমন্ত্রী আজ শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।
 
৫ জানুয়ারির নির্বাচনপূর্ব হত্যা ও সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ঠিক যেভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, সেভাবেই নির্বাচন ঠেকানোর নামে খালেদা জিয়া শত শত মানুষ হত্যা করেছেন। মনে হয়েছিল, যেন আন্দোলন মানেই মানুষ খুন আর রক্ত নিয়ে হোলি খেলা। খুন করে যেন তার নেশা মেটে না।'
 
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, 'অঙ্গীকার ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। বিচার করেছি, কয়েকটা রায়ও হয়েছে। রায় কার্যকরও শুরু হয়েছে। আরো যারা আছে, তাদের বিচারের রায়ও কার্যকর হবে।'
 
বিকেল ৩টায় এই আলোচনা সভা শুরুর কথা থাকলেও দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মৌন মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরা সভাস্থলে জড়ো হতে থাকে।
 
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সংসদ সদস্যরাও তাদের বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও নেতাকর্মীদের নিয়ে সভায় যোগ দেন। নগর আওয়ামী লীগ এবং বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ড কমিটির পদপ্রত্যাশী নেতাদের শোডাউনও ছিল চোখে পড়ার মতো।
 
এদের সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষের ভিড়ে বিকেল নাগাদ পুরো সভাস্থল জনারণ্যে পরিণত হয়। এতে শোক দিবসের আলোচনা সভা কার্যত বিশাল জনসভায় রূপ নেয়।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এদেশের অনেকেই পাকিস্তানের দাসত্ব করতে চান। খালেদা জিয়া ওই পরাজিত শক্তি ও স্বাধীনতাবিরোধীদের দোসর। পাকিস্তানের প্রতি তার এতো পীরিত থাকলে তিনি সেখানে চলে গেলেই পারেন। দেশের মানুষ ভালো ও শান্তিতে থাকলে খালেদা জিয়ার অন্তর্জ্বালা হয়, কষ্ট হয়। এরা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস তো করেনই না, বাঙালি জাতির উন্মেষ হোক- সেটাও চান না।' 
 
বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, 'খুনি মোস্তাক ও জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের পর খুনি ফারুক-রশিদ বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছিলেন, এই হত্যার পেছনে জিয়াউর রহমানের গ্রিন সিগন্যাল ছিলো, সফল হলে তিনি খুনিদের সঙ্গে থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন। হত্যার পর খুনি মোস্তাক জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করেছিলেন। খুনির সঙ্গে খুনির সম্পর্ক না থাকলে কী তাকে সেনাআইন লঙ্ঘন করে সেনাপ্রধান করা হয়? এর জবাব বিএনপি কী দেবে?'
 
তিনি বলেন, 'জিয়াউর রহমানের মতো তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করে তাদের সংসদের এমপি বানিয়েছিলেন। কাউকে কাউকে চাকরি ফিরিয়ে দিয়ে প্রমোশন দিয়েছিলেন। যারা এভাবে খুনিদের লালন-পালন ও পুরস্কৃত করে তারাও যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত- তাতে কোনো সন্দেহ নেই।'
 
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, 'খালেদা জিয়া একাত্তরের পরাজিত শক্তির সঙ্গে রয়েছেন। এ কারণেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জানজুয়ার মৃত্যুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শোকবার্তা পাঠিয়েছিলেন। যিনি এদেশে গণহত্যা চালিয়েছেন, সম্পর্ক কত গভীর থাকলে তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে এভাবে শোকবার্তা পাঠাতে পারেন?'
 
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ১৫ আগস্টের কালোরাতের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।
 
তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষকে ভালবাসতেন। তাদের ভাগ্য পরিবর্তন, কল্যাণ ও স্বার্থে কাজ করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশকে বিশ্বভায় তুলে ধরতেও চেয়েছিলেন। এ কারণেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে যেদিন আমরা এই বাংলাদেশকে সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত সমৃদ্ধ ও ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো- সেদিনই বঙ্গবন্ধুর এই আত্মত্যাগ সার্থক হবে।'
 
বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের আদর্শে দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগ শত বাধা অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যই কাজ করছে। এটি কেউ ব্যাহত করতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে আর মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াতে দেবে না।'
 
নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আআমস আরেফিস সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, মাহবুবউল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, একেএম রহমতউল্লাহ এমপি, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, শেখ বজলুর রহমান, মুকুল চৌধুরী, হাজী মো. সেলিম এমপি, সাঈদ খোকন, শাহ আলম মুরাদ, আবদুল হক সবুজ প্রমুখ।
এ সংক্রান্ত আরো খবর
মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved