rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৪, ০১:৫৯:৪৩অ-অ+
printer

শেখ হাসিনা সংসদ নেতা

সমকাল প্রতিবেদক

দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করেছে দশম জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগ। ফলে তিনিই হচ্ছেন দশম জাতীয় সংসদ নেতা। গতকাল বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানের পর আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগ এমপিরা। গতকালের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪ জানুয়ারি নবম সংসদের মেয়াদপূর্তির আগেই দ্রুততার সঙ্গে দশম সংসদের নির্বাচিত এমপিদের শপথ এবং নতুন সরকার গঠন প্রসঙ্গে অপব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, 'যা কিছু করছি সংবিধান মেনেই করছি। সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থেই এটি করা হচ্ছে। এ নিয়ে অপপ্রচারের কোনো সুযোগ নেই।' আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত এমপিরা দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ নেন। পরে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হয়ে তা এক ঘন্টারও বেশি সময় চলে। এ সময় দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করলে তাকে সমর্থন জানান নবম সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ। পরে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকেই সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়।শেখ হাসিনা সংসদ নেতা

অবশ্য সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তার নাম প্রস্তাব হওয়ার পরই শেখ হাসিনা এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন তিনি এই পদে ছিলেন। এবার নতুন কাউকে করা হোক। এ সময় দলটির সব এমপিই একযোগে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দলীয় প্রধানের উদ্দেশে বলেন, 'আপনি ছাড়া আমাদের নেতা হওয়ার মতো আর কেউ নেই। আপনিই আমাদের সহায়। আপনাকে ছাড়া দল এবং দেশও চলবে না। এ কারণেই আপনাকেই এ দায়িত্ব নিতে হবে।'

এ অবস্থায় সংসদীয় দলের নেতার দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি আবারও তার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করায় দলীয় এমপিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আবেগাপ্লুত শেখ হাসিনা বলেন, জীবন দিয়ে হলেও তিনি দেশমাতৃকার কল্যাণে কাজ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের বিষয়টি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে চিঠি দিয়ে লিখিতভাবে জানানো হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি আহ্বান জানালে নতুন সরকার শপথ নেবে। আগামী রোববার বিকেলে নতুন সরকার শপথ নেবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা নিশ্চিত করেছেন।সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতেই এ শপথ :প্রধানমন্ত্রী

সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবম সংসদের মেয়াদপূর্তির আগেই দশম সংসদের এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, সংবিধানের ১২৩ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের মেয়াদপূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন শেষে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ নিতে হয়। কাজেই সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতেই এ শপথ হয়েছে।একটি সংসদ বহাল রেখে তড়িঘড়ি করে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান প্রক্রিয়ার সমালোচনার জবাবে তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকারও বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ১৫ দিন আগে আহ্বান করেন। এ হিসাবে নবম সংসদের মেয়াদপূর্তির দিন ২৪ জানুয়ারির পরই দশম সংসদের বৈঠক বসবে। অনেকে এ নিয়ে নানা অপব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তবে এ নিয়ে অপপ্রচারের কোনো সুযোগ নেই।

দলীয় এমপিদের যার যার এলাকায় গিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য দমন ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের যারা সহিংস ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের মোকাবেলা করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। তাদের সন্ত্রাস ও নিপীড়নে নির্যাতিত জনগণের পাশেও দাঁড়াতে হবে। অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

দশম সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়েও কয়েকজন দলীয় নেতার পরাজয়ের পেছনে কর্মীদের অবমূল্যায়ন ও জনবিচ্ছিন্নতাকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ সভাপতি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বৈঠক সূত্র আরও জানিয়েছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এমপিদের মৃদু ভর্ৎসনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নির্বাচনে এলে বাঘে-মহিষে লড়াই হতো। বিএনপি না আসায় অনেক জায়গায়ই প্রতিপক্ষ ছিল বিড়াল। এই বিড়ালের সঙ্গে লড়াইয়েও সাহস পেলেন না! তা হলে তো এতগুলো আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থী থাকত না, আর আমাকেও কথা শুনতে হতো না।

মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved