rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৪, ০১:৪৭:৫৭ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৪, ১০:০৫:৩১অ-অ+
printer

গাজীপুরে শতকোটি টাকার জমি নিয়ে বিরোধ

হকিকত জাহান হকি

গাজীপুর জেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের শতকোটি টাকা মূল্যের ২৬ বিঘা জমি নিয়ে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউসেপ-বাংলাদেশের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। ওই জমির মালিকানা দাবি করছে উভয় প্রতিষ্ঠানই। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জমির মালিকানা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানতে পেরেছে, জমিটি আসলে সরকারি মালিকানাধীন। জমির বর্তমান বাজারমূল্য শতকোটি টাকা। গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়নের গোবিন্দবাড়ী মৌজার২৮৫ খতিয়ানে ৮৪০ নম্বর প্লটে বিভিন্ন দাগে ওই ২৬ বিঘা জমির অবস্থান।গাজীপুরে শতকোটি টাকার জমি নিয়ে বিরোধ

সূত্র জানায়, ব্রিটিশ নাগরিক ও তৎকালীন ইন্টারন্যাশনাল বয়েজ টাউন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. জ্যাক প্রেগার কল্যাণমূলক কাজের জন্য স্থানীয় ভূমি মালিকদের কাছ থেকে কাশিমপুর ইউনিয়নের গোবিন্দবাড়ী মৌজার জমিটি কিনেছিলেন। পরে সামাজিক অপরাধমূলক অভিযোগে ১৯৭৯ সালে তৎকালীন সরকার জ্যাক প্রেগারকে দেশ থেকে বহিষ্কার করে।

জ্যাক প্রেগারের অনুপস্থিতির কারণে ইন্টারন্যাশনাল বয়েজ টাউন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন নটর ডেম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা। তার কাছ থেকে পাওয়া নথি অনুযায়ী দেখা যায়, ২০০৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জ্যাক প্রেগার ঢাকায় এসে ফাদার বেঞ্জামিন কস্তার নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল বয়েজ টাউন ট্রাস্টের নামে রেজিস্ট্রি করে ওই জমি দান করেন। পরে দি কংগ্রিগেশন অব হলিক্রস প্রিস্ট সোসাইটির সিদ্ধান্তের আলোকে ওই জমিতে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়।এদিকে ইউসেপ-বাংলাদেশ বলেছে, জ্যাক প্রেগারকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করার পর আইন অনুযায়ী ওই ২৬ বিঘা জমির মালিকানা সমাজসেবা অধিদফতরের অধীনে চলে যায়। পরে ইউসেপ কর্তৃপক্ষ কল্যাণমূলক কাজে ওই জমির জন্য আবেদন জানালে সমাজসেবা অধিদফতর থেকে ১৯৭৯ সালের ১৮ জুলাই ইউসেপকে ওই জমি দেওয়া হয়।

ইউসেপ থেকে ওই জমির মালিকানা দাবি করা হলে তাদের দাবি চ্যালেঞ্জ করে দি কংগ্রিগেশন অব হলিক্রস প্রিস্ট সোসাইটি বাদী হয়ে গাজীপুর জেলা জজ আদালতে মামলা করে। মামলার শুনানি চলাকালে ডা. জ্যাক প্রেগার ২০১০ সালে ঢাকায় এসে আদালতে ইন্টারন্যাশনাল বয়েজ টাউন ট্রাস্টের নামে ওই জমি দান করেছেন মর্মে সাক্ষ্য দেন বলে বয়েজ টাউন ট্রাস্টের এক নথিতে দাবি করা হয়েছে। সেই নথি সূত্রেই জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে ইউসেপকে জমি দেওয়ার ক্ষেত্রে সমাজসেবা অধিদফতরের ওই স্মারককে যোগসাজশী, তঞ্চকতামূলক, বেআইনি, অকার্যকর, বানোয়াট বলে উল্লেখ করেন আদালত। রায়টি ঘোষণা করেছিলেন গাজীপুর জেলার তৎকালীন যুগ্ম জেলা জজ শামীমা আফরোজ।

নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা সমকালকে বলেন, ইউসেপ নামক এনজিওটির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা অসৎ উদ্দেশ্যে ইন্টারন্যাশনাল বয়েজ টাউন ট্রাস্টের নামে ও বর্তমানে দি কংগ্রিগেশন অব হলিক্রস প্রিস্ট সোসাইটির তফসিলভুক্ত ওই জমি আত্মসাৎ করার নানা কৌশল অবলম্বন করে আসছেন।অন্যদিকে ইউসেপ-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক জাকির হাসান সমকালকে বলেন, গাজীপুর জেলা জজ আদালতের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে উচ্চ আদালত জমির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। তিনি বলেন, জমিটি বর্তমানে ইউসেপের দখলে রয়েছে।

দুদক জানায়, ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়নে সমাজসেবা অধিদফতরের ওই ২৬ বিঘা জমি ভুয়া দান সত্র উল্লেখ করে ইন্টারন্যাশনাল বয়েজ টাউন ট্রাস্টের নামে দলিল করে নিয়েছেন। সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগে ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা ও গাজীপুরের সাবেক সাব রেজিস্ট্রার আবদুস সবুরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-২ এর সহকারী পরিচালক আলী আকবর খান এ অভিযোগ অনুসন্ধান করেছেন।

এদিকে দুদকের অনুসন্ধানে বলা হচ্ছে, জ্যাক প্রেগার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সরকারের রেজিস্ট্রেশন নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪৬-এর ১২(গ) ধারা অনুযায়ী ওই জমি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যায়। এর পর বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়া ওই ব্রিটিশ নাগরিকের উপস্থিতি দেখিয়ে নিজেকে ইন্টারন্যাশনাল বয়েজ টাউন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান উল্লেখ করে জ্যাক প্রেগার কর্তৃক ভুয়া দানপত্র দেখিয়ে ফাদার বেঞ্জামিন নিজ নামে ওই জমির দলিল করে নেন। দুদক বলছে, আইন অনুযায়ী যা আত্মসাৎ। অন্যদিকে ১৯৭৯ সালের পর জ্যাক প্রেগার কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছিলেন বলে বিভিন্ন নথিতে বলা হলেও দুদক বলছে অন্য কথা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, ইমিগ্রেশন বিভাগ, পাসপোর্ট অধিদফতরের বহিরাগমন শাখা ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৯৭৯ সালের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জ্যাক প্রেগারের বাংলাদেশে আসার তথ্য পায়নি দুদক।

মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved