rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৪অ-অ+
printer
ডিক্যাপ্রিও-স্করসিস

ছন্দময় ছেলেবুড়োর জাদু

নিয়ন হাসান
মার্টিন স্করসিস, রবার্ট ডি নিরো এবং লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। এই তিনজনের সঙ্গে অদ্ভুত একটা মিল আছে। স্করসিস জীবনে যত ছবি বানিয়েছেন, সেগুলোর বেশিরভাগেই অভিনয় করেছেন ডি নিরো ও ডিক্যাপ্রিও। মজার মিল হলো, দু'জনের নামই ইংরেজি 'ডি' অদ্যাক্ষর দিয়ে! স্করসিসের বয়স এখন ৭১ বছর। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখনও রূপালি পর্দায় দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন এই মার্কিনি। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তার অনেক ছবির নায়ক ছিলেন ডি নিরো। এ তালিকায় রয়েছে 'মিন স্ট্রিটস' [১৯৭৩], 'ট্যাক্সি ড্রাইভার' [১৯৭৬], 'নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক' [১৯৭৭], 'রেজিং বুল' [১৯৮০], 'দ্য কিং অব কমেডি' [১৯৮৩], 'গুডফেলাস' [১৯৯০], 'কেপ ফিয়ার' [১৯৯১] এবং সর্বশেষ 'ক্যাসিনো' [১৯৯৫]। নিরোর বর্তমান বয়স ৭০। তাকে দিয়ে আর নায়কের চরিত্র হবে না। তাই স্করসিস কয়েক বছর ধরে জুটি বেঁধেছেন ডিক্যাপ্রিওর সঙ্গে। এখন পর্যন্ত এ জুটি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন 'গ্যাংস অব নিউইয়র্ক' [২০০২], 'দ্য অ্যাভিয়েটর' [২০০৪], 'দ্য ডিপার্টেড' [২০০৬] এবং 'শাটার আইল্যান্ড' [২০১০] ছবিগুলো। সর্বশেষ গেল বছরের ২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছে স্করসিস পরিচালিত ও ডিক্যাপ্রিও অভিনীত 'দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট'। ১০ কোটি মার্কিন ডলারে নির্মিত ছবিটির আয় ৬৩ কোটি মার্কিন ডলার। ছবিটি হলিউডের প্রযোজক সমিতির দৃষ্টিতে ২০১৩ সালের সেরা ছবির তালিকায় মনোনয়ন পেয়েছে। হলিউডের লেখক সমিতির মনোনয়নও এসেছে ছবিটির ঘরে। প্রতি বছর হলিউডের প্রযোজক সমিতি ও লেখক সমিতির মনোনয়ন পাওয়া ছবিগুলো অস্কারে বাজিমাত করে। যেমন গতবার সেরা ছবি হয়েছিল বেন অ্যাফ্লেকের 'আর্গো'। এসব তথ্যই জানিয়ে দিচ্ছে স্করসিস-ডিক্যাপ্রিও জুটি আরেকবার জাদু দেখালেন। এ কারণে ডি নিরো সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন 'ডিক্যাপ্রিও আমার স্থানটা দখল করে নিয়েছে।'
'দ্য উলফ অব ওয়ার স্ট্রিট' ছবির কাহিনী জর্ডান বেলফোর্ট [লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও] নামের এক স্টক ব্রোকারকে নিয়ে। তার জন্ম ১৯৬২ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বেলফোর্ট প্রথম জীবনে ওয়াল স্ট্রিটে স্টক ব্রোকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে তিনি 'উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট' অর্থাৎ ওয়াল স্ট্রিটের নেকড়ে [!] নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। গল্পে দেখানো হয়েছে জর্ডান বেলফোর্টের শেয়ার মার্কেটের স্টকব্রোকার হিসেবে উত্থান, অভিজাত জীবনযাত্রা, অপরাধে জড়িয়ে পড়া, দুর্নীতি এবং ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা। শুরুতে দেখা যায় বেলফোর্ট [ক্যাপ্রিও] স্টক ব্রোকার হিসেবে কাজ করে একটি প্রতিষ্ঠিত ওয়াল স্ট্রিটের ফার্মে। চাকরি হারিয়ে সে তার এক বন্ধুর সঙ্গে মিলে 'স্ট্যাটান ওয়াকমন্ট' নামে একটি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে। কিছুদিনের মধ্যেই 'স্ট্র্যাটান ওয়াকমন্ট' মিলিয়ন ডলার কোম্পানিতে পরিণত হয়। বেলফোর্ট এরপর একের পর এক প্রতারণা করতে থাকে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গেও সে প্রতারণা করে। তাকে ডির্ভোস দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে সে। একসময় জর্ডান বেলফোর্টের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এফবিআই। তার তিন বছরের জেল হয়। শেষে দেখা যায় বেলফোর্ট নিউজিল্যান্ডে একটি সেমিনারে সেলস টেকনিক শিক্ষা দিচ্ছেন। ১৯৯১ সালের হ্যাম্পসটন বিচে জর্ডান বেলফোর্ট ও তার তখনকার বাগদত্তা ন্যাডিন কারিডির বিচ পার্টির মূল ভিডিও ছবিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট এর দৃশ্যধারণ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১৩ সালের ১২ জানুয়ারি। চিত্রনাট্য লিখেছেন টেরেন্স উইন্টার।
মুক্তির পর ছবিটি নিয়ে অনেক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, স্টক ব্রোকারের অধম ক্রিয়াকলাপ নিয়ে ছবি করে কি তাদের মাথায় তুললেন মার্টিন স্করসিস? নাকি বিঁধতে চাইলেন ব্যঙ্গে? স্টক ব্রোকারের স্বেচ্ছাচারী জীবনই ছিল স্করসিসের মূল বিষয়বস্তু। ছবিতে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও হেন মাদক নেই, যা সেবন করেননি। অবশ্য অভিনয়ের লেন-বাইলেনের কোনো কিছুই বাদ দেননি তিনি! যদিও পুরো ছবিতে ডিক্যাপ্রিও ছাড়া কিছুই ছিল না! তাই অস্কারে সেরা অভিনেতার মনোনয়ন তার ভাগ্যে জুটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "অস্কারের দাবিদার অনেকেই আছেন। কিন্তু আমার মনে হয় 'দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট' ছবির জর্ডান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আমি তাদের মধ্যে অন্যতম। আমি অস্কার পাব কি-না জানি না। তবে একজন অভিনেতা হিসেবে বলতে পারি ছবিটি ও পরিচালক হিসেবে স্করসিস অস্কার পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।" হ
মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved