rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রিন্ট সংস্করণ, প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৪অ-অ+
printer

চেনা অচেনা সুচিত্রা সেন

মুনমুন সেন
সুচিত্রা সেন মানেই যেন এক জমকালো সেলুলয়েড সেনসেশন! রহস্যের মিথে ঘেরা বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের তিন তলার ফ্ল্যাটে তিন দশক ধরে অন্তরালবর্তিনী হয়ে আছেন তিনি। অন্তরাল ভেঙে প্রথমবার গত রোববার কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী। ১৯৭৮ সালে 'প্রণয়পাশা' ছবি মুক্তি পায়। সেই শেষ। তারপর থেকে আর লোকচক্ষুর সামনে আসেননি বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় মিথ সুচিত্রা সেন। তার নো-ম্যানস ল্যান্ডে কারও প্রবেশাধিকার নেই। আজও সুচিত্রা-রহস্য ভেদ করা সম্ভব হয়নি কারও। অনেক অনুনয়ের পর গোপনচারিণী স্বেচ্ছাবন্দি সুচিত্রা সেন সম্পর্কে মুঠোফোনে নন্দনের কাছে কিছু কথা বললেন তার মেয়ে মুনমুন সেন। এসব কথার মধ্য দিয়ে উঠে এলো মহাবিখ্যাত সুচিত্রা সেনের চেনা অচেনা জীবন।
_মা ভীষণ কাজ অন্তপ্রাণ হলেও অসম্ভব গোছানো ছিলেন। শুটিংয়ের মধ্যে থেকেও বাড়িতে নিয়মিত ফোন করতেন। বাড়ির সমস্ত খবরাখবর রাখতেন। আমি ঘর থেকে বেরোলে বলতেন_ 'সন্ধ্যের মধ্যে ফিরে আসবে।' অসম্ভব নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলতেন। এত ব্যস্ততা আর ওই রকম জনপ্রিয়তার মধ্যেও সংসারের চাবি ঠিকই নিজের কাছে রাখতে পেরেছিলেন। আমি চলচ্চিত্রে আসি তিনি তা চাননি। আমার অভিনয়ের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধী ছিলেন সুচিত্রা। এ কারণে আমার সঙ্গে ছ'মাস কথাও বলেননি। তখন তার সঙ্গে দেখা করার জন্য রাইমা-রিয়া আর কাজের লোককে নিয়ে যেতাম। এতটাই তখন উনি খেপে ছিলেন যে, আমার সঙ্গে কথাই বলতেন না। একবার যেটা বলবেন, সেটা করেই ছাড়বেন, কোনো কিছু তাকে টলাতে পারবে না।
'দীপার প্রেম' ছবিতে আমি কাজ করার পর প্রথম বললেন 'হ্যাঁ, তুমি ঠিক ট্র্যাকে আছ। যখন অরুন্ধতী দেবী, তপন সিংহের কাজ করতে শুরু করলাম, তখন বরফটা প্রথম গলল। তবে কোনো টিপ্স দেননি। মায়ের জনপ্রিয়তা নিয়ে আমি সবসময় ভীষণ গর্বিত। সত্যিই যে উনি কতটা জনপ্রিয় সেটা প্রথম বুঝতে পারি যাত্রা করতে গিয়ে। প্রতি রাতে মঞ্চে ওঠার পরই লোকে বিস্ময় আর ভালোবাসা মিশ্রিত অভিব্যক্তি জানাত। রাতের পর রাত এই এক জিনিস ঘটেছে। তারা কেউ মাকে চোখে দেখেনি। মাকে নিয়ে আমার বরাবর অসম্ভব গর্ব। এ রকমও হয়েছে, লোকে আমায় একটু ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছে, যাতে সুচিত্রা সেনকে ছোঁয়া যায়! একটা মানুষকে নিয়ে উন্মাদনা কোথায় পেঁৗছালে বহু বহু বছর পর তার মেয়েকে স্পর্শ করে লোকে খুঁজতে চায়। প্রবাদপ্রতিম মায়ের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার জন্য অগণিত অনুরোধ পেয়েছি আমি। সাধারণ লোকের কথা বাদই দিলাম। বড় বড় তারকারাও চান আমি মায়ের সঙ্গে একটা আড্ডার ব্যবস্থা করিয়ে দিই। মাকে গিয়ে এসব বললে তিনি শুধু শোনেন আর হাসেন। আপনাদের দেশের [বাংলাদেশ] এক ভক্ত একবার আমাদের বাড়িতে এসে বাগানের গেটে হাত ঢুকিয়ে গাছের পাতা নিয়ে বললেন, 'ঢাকায় গিয়ে সবাইকে দেখাব, সুচিত্রা সেনের বাড়ির গাছের পাতা।'
এত বছর পরেও মানুষ যে তাকে এভাবে মনে রেখেছে, তার বড় কারণ আমার মতে সৌন্দর্য। নিজের মা বলে বলছি না, উনি অত্যন্ত সুন্দর। বাংলা সিনেমার পর্দায় এরকম সুন্দরী আর কেউ আসেনি। মায়ের ঘাড় কাত করে তাকানো ছিল বিখ্যাত ম্যানারিজম। যুগ যুগ ধরে আজও চলে আসছে এটা। সৌন্দর্য, স্টাইল, আবেদনের কথা বললে আমার মায়ের স্টাইল স্টেটমেন্ট কী জানতে চায় অনেকে। 'আমার মনে হয় তার অভিব্যক্তি। ওই সৌন্দর্য আর আবেগভরে উপস্থাপনের ক্ষমতা। তার স্টাইলিং চেতনা বরাবরই দুর্ধর্ষী। সুচিত্রা সেন বরাবরই খুব স্টাইলিশ, সবসময়। এত সুন্দরী যে কিছু সাজতেই হতো না। ত্বকও এত চমৎকার যে, আমরা অবাক হয়ে দেখতাম কোনো গয়না গায়ে নেই। সাধারণ একটা টাঙ্গাইল শাড়ি মা পরে আছেন, তাতেই কী অসম্ভব রূপসী দেখাচ্ছে তাকে। তার স্টাইলের বিশেষত্বই ছিল সারল্য। একটা সময়ে মা প্রায়ই ঘর থেকে বেরোতেন। হ্যারিংটন ম্যানসনের বাড়িতে আসতেন। রিয়া-রাইমাকে নিয়েও বেরোতেন। বিপণিবিতানে গিয়ে কেনাকাটা করতেন। বর্ধন মার্কেটে যেতেন। তার চেনা কিছু দোকানদার আছে। তারা মায়ের গোপনীয়তাকে খুব সম্মান করেন। এখন অবশ্য মায়ের আর বের হওয়া হয় না। আমার মা ভীষণ প্রাইভেট পার্সন। সবসময় চুপচাপ থাকলেও তার মনটা ভীষণ চটপটে। সমস্ত খবর রাখেন।
মানুষের মনোযোগ আকর্ষণের ক্ষমতা, ব্যবহারের ধরন, সুন্দর চেহারা, মাঝে মধ্যে মেজাজ হারিয়ে ফেলা, সবকিছুতেই তিনি অনবদ্য। নিজের রূপসজ্জাকর বা ব্যবস্থাপকরা তাদের প্রতি অসম্ভব অনুগত ছিলেন। ওই ধরনের আনুগত্য সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। এটা সম্ভব করেছিল তার ক্যারিশমা। পর্দা উপস্থিতির বেলায় মা ছিলেন অভূতপূর্ব, এ গুণই তাকে বাকি সব নায়িকার ভিড়ে আলাদা করেছে। পর্দায় এলে পুরো মনোযোগই নিয়ে নেন নিজের ওপর।
উত্তমকুমারের সঙ্গে তার জুটি আজও অতুলনীয়। তাদের প্রথম ছবি 'সাড়ে চুয়াত্তর' ২০১৪ সালে ৬০ বছর [হীরক জয়ন্তী] পূর্ণ করলো। এ ছবি দিয়েই শুরু হয়েছিল তাদের হিরন্ময় অধ্যায়। বাঙালিদের হৃদয়ে আজও আরাধ্য জুটি তারা। তাদের মধ্যে দারুণ একটা বোঝাপড়া ছিল। তাদের শুটিং দেখে মনে হতো যেন সবকিছুই আগে থেকে ঠিক হয়ে আছে। সত্যজিৎ রায় একবার বলেন, পৃথিবীতে খুব কম জুটি আছে যাদের মধ্যে রসায়ন এত জাদুময়। শুটিংয়ের পরে তারা যার যার পরিবারের কাছে ফিরে যেতেন। একজন স্ত্রীর কাছে। একজন স্বামীর কাছে। অথচ জুটি হিসেবে এত বাস্তব মনে হতো তাদের। আমি তো মাকে একবার বলেই ফেলেছিলাম, উত্তম কুমারকে বিয়ে করা উচিত ছিল তোমার। উনি কোনো উত্তর দেননি। স্রেফ হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। হ
মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved