rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০১৪, ০১:৫৪:৩৯অ-অ+
printer
সংখ্যালঘু নির্যাতন

পঞ্চগড় গাইবান্ধা মৌলভীবাজারে হামলা ভাংচুর আগুন

সমকাল ডেস্ক

বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বিএনপি-জামায়াতকর্মীরা। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হামলায় ৫ জন আহত হয়েছেন। গাইবান্ধার কুপতলায় সংখ্যালঘু পরিবারের ৭টি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাংচুর করা হয়। এতে ৫ জন আহত হন। এছাড়া রংপুরের পীরগঞ্জ, মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।পঞ্চগড় গাইবান্ধা মৌলভীবাজারে হামলা ভাংচুর আগুন

 

পঞ্চগড় সংবাদদাতা জানান, সোমবার বিকেলে পঞ্চগড়-২ আসনের নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম সুজন মোটরসাইকেল বহর নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের জগন্নাথ বাজারে যান। এক পর্যায়ে মিছিলের কয়েকজন নেতাকর্মী ওই ইউনিয়নের ময়দানের হাটের অর্ধশত বিএনপি-জামায়াতকর্মীর দোকানে ভাংচুর করে। এ সময় তারা বিএনপি সমর্থক ইউপি চেয়ারম্যান রহিমুল ইসলাম বুলবুলের বাড়িও ভাংচুর করে। সংসদ সদস্য চলে গেলে বিক্ষুব্ধ বিএনপি-জামায়াতকর্মীরা জগন্নাথ বাজারের হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এ সময় তারা উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের জগন্নাথ বাজারের হিন্দু সম্পদায়ের তপন কুমারের স্বর্ণের দোকান এবং হরিদাসের সেলুনসহ কমপক্ষে ২০টি দোকানে লুটপাট করে। পরে দেবীগঞ্জ থানার ওসি ভবানীকান্ত রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে জামায়াত-বিএনপির বিক্ষুব্ধ কর্মীরা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ কনেস্টবল স্বপন কুমারসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। এ নিয়ে দেবীগঞ্জ থানায় তিনটি পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বোয়ালছার এলাকার পখিলাগা হিন্দুপাড়ায় ধনেশ্বর রায়ের বাড়ির খড়ের গাদায় মঙ্গলবার রাতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এ ঘটনায় এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, রাতে সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের বেড়াডাঙ্গা বাজারে গত সোমবার সংখ্যালঘুদের ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালানো হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা এলাকার নরেশ চন্দ্র কর্মকার ও ননীগোপাল কর্মকারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও পরিবারের লোকজনকে মারধর করে। এতে ৫ জন আহত হন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার কারণে এ হামলা চালানো হয়।

সীতাকু প্রতিনিধি জানান, ভোট দেওয়ায় উপজেলায় গতকাল পর্যন্ত ৫ জন হিন্দু নারী-পুরুষের ওপর হামলা হয়েছে। উপজেলার বাড়ৈয়াঢালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেহান উদ্দিন রেহান জানান, নির্বাচনে ভোট দেওয়ায় সোমবার বিএনপি-জামায়াতের কিছু কর্মী স্থানীয় লালানগর গ্রামের সংখ্যালঘু মহিলা ননীবালা শর্মা (৭২), বকুল দত্ত (৬০) ও মোহাম্মদ আলীকে পিটিয়ে আহত করে। এছাড়া বাবা ভোট দেওয়ার অপরাধে তুষার (১৩) নামক এক কিশোরকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, জেলার বড়লেখায় গত সোমবার রাতে জগডোবা সিকামহল গ্রামের বাসিন্দা ডা. প্রণব দলপতির বাড়ির বসতঘর থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে দুটি খড়ের গাদায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে বড়লেখা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ডা. প্রণব দলপতি জানান, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনলে আমার বসতঘরও পুড়ে যেত। বড়লেখা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার আবদুল আজিজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, নির্বাচনে পীরগঞ্জ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি খাজা মণ্ডল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় গত সোমবার রাতে ধাপেরহাটে বাজার করতে এলে দুর্বৃত্তরা তাকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি বড় গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আমিন মণ্ডলের ছেলে। অন্যদিকে পাঁচগাছী ইউনিয়নের আমোদপুর ও চতরা ইউনিয়নের শিবটারী গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের দু'ব্যক্তির বাড়িতে ও ভীমশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু বেঞ্চে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved