rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৪, ২২:০১:১৯অ-অ+
printer

প্রধানমন্ত্রীর পুরো বক্তব্য

অনলাইন ডেস্ক
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গণভবনে খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিদেশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে শেখ হাসিনা লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হলে:প্রধানমন্ত্রীর পুরো বক্তব্য
শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
 
সম্মানিত দেশি ও বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ
 
আসসালামু আলাইকুম
 
পৌষের এই সুন্দর বিকেলে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আমি আপনাদের স্বাগত জানাই। গত ৫ জানুয়ারি দেশে বহুল আলোচিত এবং প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন (দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৪) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিরোধী দলের অনাকাঙ্খিত নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য সন্ত্রাস, সহিংসতা, হত্যা, জনগণের জানমাল এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ধ্বংসযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ, উস্কানি, ত্রাস সৃষ্টি ও বোমাবাজির মধ্য দিয়ে সব অপপ্রয়াস প্রত্যাখ্যান করে জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। বিরোধী দল থেকে নিষেধ করা হয়েছিল, যেন কেউ নির্বাচনে না যায়। এরপরও ব্যাপক বোমাবাজির মধ্যেও জনগণ ভোট দেওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে, আমার সরকার, আমার দলের এবং জনগণের পক্ষ থেকে সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।
 
এ নির্বাচনে জনগণ সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতার বিরুদ্ধে শান্তি, সাংবিধানিক ধারা এবং গণতন্ত্রের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এ নির্বাচনে বিজয় হয়েছে গণতন্ত্রের এবং পরাজয় হয়েছে গণতন্ত্রবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির। আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি আমাদের দেশকে অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছেন। জনগণকে রক্ষা করেছেন।
 
শত হুমকি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা এ নির্বাচনকে সফল করার জন্য কাজ করেছেন, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, কোস্টগার্ডসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে। তারা সাহসিকতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য কাজ করেছেন।
 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, তরীকত ফেডারেশন, বিএনএফ, ১৪ দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সন্ত্রাস ও সহিংসতা মোকাবেলা করে নির্বাচন বানচালের সব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে দেশপ্রেমিক হিসেবে যে ভূমিকা রেখেছেন, সে জন্য আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দেশের মিডিয়া ও সংবাদকর্মীরা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং বোমা হামলা ও সন্ত্রাস উপেক্ষা করে প্রতিমুহূর্তের সংবাদ প্রচার করেছেন, সে জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরও ধন্যবাদ জানাই।
 
আমাদের নতুন প্রজন্মের যারা এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন তাদের বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। এবারের নির্বাচন শুধু গণতন্ত্রের রক্ষার জন্যই নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার জন্য। জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখা, লাখো শহীদের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ এ নির্বাচনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে।
 
প্রধান বিরোধী দলসহ সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন আরও প্রতিযোগিতামূলক ও ইতিবাচক হতে পারত। আমাদের সবার প্রত্যাশা ছিল প্রধান বিরোধী দল গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে এবং সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ লক্ষ্যে আমি বিরোধী দলের সম্মানিত নেত্রীসহ সবাইকে বারবার সংলাপ ও রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমার উদ্যোগ ও অনুরোধে সাড়া না দিয়ে সন্ত্রাস, সহিংসতা, নৈরাজ্য, নাশকতা ও ধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছেন। দেশকে অরাজকতা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য ধ্বংসাত্বক কর্মসূচি জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। তাদের সন্ত্রাস ও নাশকতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হলো দেশের নিরীহ নাগরিক, ধ্বংস হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতি এবং ব্যাহত হচ্ছে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ।
 
নির্বাচনের প্রাক্কালে আমি গণতন্ত্র ও জাতির শান্তির এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিরোধী দলকে সন্ত্রাস ও সহিংসতা পরিহার করে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছি। আজও নির্বাচনের পর আমি চাই কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, সন্ত্রাস ও সহিংসতার পরিবর্তে শান্তি, নৈরাজ্য ও অনিশ্চয়তার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা, ধ্বংস ও নাশকতার পরিবর্তে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা। আমি বিরোধী দলের সম্মানিত নেত্রীসহ সবাইকে আবার আহ্বান জনাই- সন্ত্রাস ও সহিংসতা পরিহার করে যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদী জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় আসুন। আগামী নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনা করেই আমরা সমাধান করতে পারব। সে জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে, সহনশীল হতে হবে এবং সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।
 
দেশের মানুষ শান্তি চায়, উন্নয়ন চায় এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে চায়। নিরীহ নাগরিকের রক্তে আজ গণতন্ত্র রক্তাক্ত, সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির শিকার বার্ন ইউনিটের অগ্নিদগ্ধ মানুষের আর্তনাদ জাতির বিবেককে আজ দংশন করছে। জাতি আজ এর অবসান চায়।
 
আমাদের দেশের গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘসহ সব বন্ধুরাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ ও কূটনীতিকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ আজ একটি অপার সম্ভাবনার দেশ। আমাদের দেশে শান্তি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য আমি সব আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করছি।
 
নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন করে জনগণ যে ম্যান্ডেট আমাদের দিয়েছে, সে জন্য আমি জাতির কাছে কৃতজ্ঞ। আমি জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা আমাদের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ।
 
আমি সুস্পষ্ট করে ঘোষণা করছি, আমার নির্বাচিত সরকারের প্রথম কাজ হবে যে কোনো মূল্যে দেশের জনগণের জানমাল এবং রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করা। আমি তাই নির্বাচনোত্তর যে কোনো সন্ত্রাস ও সহিংসতা কঠোর হাতে দমন করার জন্য প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দিচ্ছি। নির্বাচনবিরোধী দুষ্কৃতকারীদের অগ্নিসংযোগে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা অতিসত্তর মেরামত করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে। ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানার উৎপাদন এবং রফতানি বাণিজ্যকে সব রাজনৈতিক সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকদের স্বাভাবিক জনজীবন সুনিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
 
বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাস ও নাশকতার শিকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার আহত ও নিহত সদস্যদের পরিবারকে সব ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যারা সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে সহায়তা করা হবে। যারা আহত তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে যাচ্ছি এবং তা অব্যাহত থাকবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে।
 
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হবে। স্বাধীনতাবিরোধী এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার কাজ অব্যাহত থাকবে এবং বিচারের রায়ও কার্যকর করা হবে। মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। আমাদের সরকারের ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে অর্জনকে দেশ ও জাতির কল্যাণে অব্যাহত রাখা হবে।
 
এ নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট কার্যকর করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ৩০ লাখ শহীদের স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করব। জনগণ আমাদের পাশে আছে, থাকবে। এ বিশ্বাস আমার রয়েছে।
 
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
 
খোদা হাফেজ। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
 
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved