rss

সেহরি ও ইফতার | রমজান-

শিরোনাম
বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফ্রান্স, বিৃবতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র <> 'অধিকার' সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন <> অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ বীমা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার (৩৮) ও ফল ব্যবাসায়ী মো. ফরিদ (৫০) মারা গেছেন <> সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হলে তার পরিণাম হবে আত্মঘাতী, মন্তব্য যোগাযোগমন্ত্রীর <> ভারতের মহারাষ্ট্রে চলন্ত ট্রেনে আগুন লেগে এক নারীসহ অন্তত ৯ জন নিহত
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৪, ১০:০৭:৫৭ | আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৪, ১৩:৫৬:৫৩অ-অ+
printer

জাতীয় দৈনিকে দশম সংসদ নির্বাচন

হাফিজ মোল্লা
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আজকের প্রধান সংবাদ ছেপেছে জাতীয় দৈনিকগুলো। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা, ভোট কারচুপি আর বিগত কয়েকটি নির্বাচনের খবরও উঠে এসেছে প্রতিবেদনগুলোতে।জাতীয় দৈনিকে দশম সংসদ নির্বাচন
ফাইল ছবি।
 
দৈনিক সমকালের  প্রধান খবরের শিরোনাম 'ভোটার কম: সহিংসতায় নিহত ২২'। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, "কম ভোটারের উপস্থিতি আর নজিরবিহীন নাশকতা ও বিরোধী জোটের হরতাল-অবরোধের মধ্যে শেষ হয়েছে চরম উৎকণ্ঠার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। গতকাল রোববার নির্বাচনকে ঘিরে বোমাবাজি, সংঘর্ষ, আগুন আর গুলিতে সারাদেশে নিহত হয়েছেন ২২ জন। তাদের মধ্যে একজন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও একজন আনসার সদস্যও রয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৫০০।"
 
১৯৮৮ সালে এরশাদের স্বৈরশাসনের আমলে নির্বাচন এবং ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদটিতে বলা হয়েছে, "সব মিলিয়ে দেশের বিতর্কিত নির্বাচনের ইতিহাসে ৫ জানুয়ারি নতুন একটি সংযোজন হয়ে থাকল।"
 
দৈনিকটির প্রথম পাতার আরেকটি সংবাদের শিরোনাম 'একটিও ভোট পড়েনি ৪২ কেন্দ্রে!'। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, "সারাদেশে অনেক ভোটকেন্দ্রে নগণ্যসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি অনেকটাই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে আওয়ামী লীগকে। বিশেষ করে ৪২টি ভোটকেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। এতে প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগের ভোটাররা কোথায় গেলেন? তারা কেন ভোট দিতে আসেননি?"
 
'জাল ভোট, কলঙ্কিত নির্বাচন' শিরোনামে প্রধান সংবাদ করেছে দৈনিক প্রথম আলো। একতরফা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনটিতে ফাঁকা কেন্দ্রে সরকারি দলের কর্মীদের জাল ভোট দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে।
 
এতে বলা হয়েছে, "প্রথমে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তারপর খালেদা জিয়া। এবার শেখ হাসিনা। গতকাল রোববার তৃতীয়বারের মতো একতরফা নির্বাচন দেখল বাংলাদেশ। সব একতরফা নির্বাচনের যা চরিত্র, গতকালের নির্বাচনটিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। একতরফা নির্বাচনের কলঙ্কিত সব অনুষঙ্গই ছিল গতকালের ভোটে। ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। ফাঁকা কেন্দ্রে জাল ভোট দিয়েছেন সরকারি দলের কর্মীরা। ছিল কেন্দ্র দখল করে সিল মারার মতো গর্হিত ঘটনা। 
 
নির্বাচন প্রতিরোধকারী বিএনপি-জামায়াতের দিক থেকে ছিল সহিংসতা, কেন্দ্র পোড়ানো, কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপার ও বাক্স ছিনতাই, ভাঙচুর, নির্বাচনী কর্মকর্তা হত্যা, মারধর এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা। গতকালই সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৯ জন। ভোটের দিনে এটাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। এই একতরফা নির্বাচনেও হেরে গেছেন সরকারি দলের পরিচিত-প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা।"
 
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়েছে, "এই নির্বাচনে কেউ জেতেনি, সবাই পরাজিত হয়েছে। যদি কেউ জিতে থাকে, তা হলো একটি ক্রমবর্ধমান উগ্র ধর্মান্ধ শক্তি, যারা সারা দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তারা আরও বলবান হওয়ার সুযোগ পেল।’"
 
দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম 'ভোটারহীন সহিংস ভোটে নিহত ২১'। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, "প্রধান বিরোধী দল ছাড়া এবং হরতাল-অবরোধ ও ব্যাপক নাশকতার মধ্য দিয়ে আরেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে দেখল দেশের জনগণ। রাজধানীতে তেমন কিছু না ঘটলেও বাইরের ৩১টি জেলায় ভোটকেন্দ্রে হামলা, সংঘর্ষ, ব্যালট ছিনতাই, বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগের মতো সহিংসতা ঘটেছে। এর মধ্যে ১২ জেলায় নিহত হয়েছে ২১ জন। এ ছাড়া সহিংসতায় আহতের সংখ্যা কয়েক শ। দগ্ধ হয়েছেন তিন আনসার সদস্য।" 
 
গত ২৫ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে রোববার ভোটগ্রহণ পর্যন্ত সহিংসতায় প্রায় দেড় শ জন নিহত হয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদনটিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
 
'সহিংসতার মধ্য দিয়ে ভোট শেষ' দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম। সংবাদটিতে বলা হয়েছে, "সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতা, ভোট কেন্দ্র জ্বালিয়ে দেয়া, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জামাদি ছিনিয়ে নেয়া, সংঘর্ষ ও কম সংখ্যক ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাতে কমিশন থেকে আসনভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা শুরু করা হয়। ওই সময়ে আওয়ামী লীগ নেতা ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ভোট গ্রহণ চলাকালে বেশ কয়েকটি জেলায় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা সহিংস ঘটনা ঘটাচ্ছে এমন অভিযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানায় আওয়ামী লীগ। অপরদিকে জাতীয় পার্টির একটি প্রতিনিধি দল কমিশনে হাজির হয়ে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আনেন।"
 
দৈনিকটির শেষ পাতায় 'অসংখ্য রেকর্ড গড়ল ব্যতিক্রমী নির্বাচন' শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, "ইতিহাস গড়া এক ব্যতিক্রমী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল রোববার। সব দিক থেকেই রেকর্ড গড়ল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এত বেশি সহিংসতা, ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ, ব্যালটবাক্স ও ব্যালটপেপার লুটপাট-ছিনতাইয়ের আতংক, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, এত বেশি সংখ্যক মানুষ নিহত, এত বেশি ব্যয়, এত কম ভোটার উপস্থিতি, এত কম প্রার্থীর অংশগ্রহণে অতীতে আর কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রধান বিরোধী দল ছাড়া একতরফা নির্বাচন করায় এমনটি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ইতিহাসের পাতায় এ নির্বাচন খারাপ নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তারা। প্রতিবেদনটিতে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচনের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।"
 
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় বগুড়ার গাবতলীতে বোমা হামলার পর এক যুবকের ওপর পুলিশের নির্যাতনের ছবি ছাপা হয়েছে। পত্রিকাটির প্রধান সংবাদের শিরোনাম 'ভোট সহিংসতায় নিহত ২৪'। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, "দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার ও শনিবার মধ্যরাতের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোট কেন্দ্রে হামলা, সহিংসতা, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪ জন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। বাকিরা বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মী। নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দিনাজপুর, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও জেলায়। এসব জেলায় ৪ জন করে মোট ১২ জন মারা গেছেন। এছাড়া রংপুর ও ফেনীতে দুজন নিহত হয়। লালমনিরহাট, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, পিরোজপুর, নওগাঁ, নোয়াখালী ও গাইবান্ধায় ১ জন করে নিহত হয়।"
 
দৈনিকটির অন্য প্রধান শিরোনাম 'জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাইয়ে শেষ হল ১৪৭ আসনের নির্বাচন'। এতে বলা হয়েছে, "নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত দু'দিনে চার শতাধিক ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কিছু স্থানে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট প্রদানেরও ঘটনা ঘটে। অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে ব্যালট পেপারই পাঠাতে পারেনি প্রশাসন।"
 
ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার'র প্রথম পাতায় রাজশাহীতে ভোট দিতে যাওয়ায় প্রতিপক্ষরা এক যুবককে লাঠিসোটা নিয়ে বেধড়ক পেটানোর ছবি ছাপা হয়েছে। দৈনিকটির প্রধান শিরোনাম 'টার্নআউট লো ইন ডেডলিয়েস্ট পোলস'। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশের রক্তক্ষয়ী নির্বাচন ছিল এটি। খুব কম ভোটারের উপস্থিতি আর তীব্র উত্তেজনার নির্বাচনে সারাদেশে সহিংসতায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।
মন্তব্য
সর্বশেষ ১০ সংবাদসর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
সম্পাদক : গোলাম সারওয়ার
প্রকাশক : এ কে আজাদ
ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫  ৮৮৭০১৯৫
ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১  ৮৮৭৭০১৯৬
বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০
১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ বেআইনি
powered by :
Copyright © 2017. All rights reserved